কুমিল্লা শহরে নেমেছে এবার অবৈধ অটোরিকশা
টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) চলাচল বন্ধ হওয়ার পর এবার নেমেছে অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অনুমোদনহীন ওই সব বাহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সড়কে চলাচল করছে। একই সঙ্গে নিচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়াও।
সরেজমিনে শহরের কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, পুলিশ লাইন, বাদশা মিয়ার বাজার, হোটেল সালাউদ্দিনসংলগ্ন এলাকা, চকবাজার, কালিয়াজুরি ও জজকোর্ট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাত্রী পরিবহন করছে। এসব বাহনের অধিকাংশেরই লাইসেন্স নেই। ওই বাহনের পেছনে কেবল কুমিল্লা থ-১১ লেখা রয়েছে। এর পরে আর কোনো সংখ্যা নেই। এসব বাহনে শহরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে ১০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বেপরোয়া গতিতে চলা ওই অটোরিকশা নতুন করে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি করছে। এর আগে ২১ জুলাই থেকে নগরের প্রধান সড়কগুলোর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) তুলে দেওয়া হয়। যানজট নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসন ওই উদ্যোগ নিলেও নতুন করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় বর্তমানে বৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা আট হাজার ৩২০টি। এর বাইরে অবৈধ বাহন রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার। এসব বাহনে কোনো ধরনের নম্বর নেই। অনুমোদনহীন ওই যানবাহনের নিবন্ধন না থাকায় সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ফরিদ মিয়া, আফজল হোসেন ও রহিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয় শহরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে। তাঁরা বলছেন, ‘রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিআরটিএর কাছে আবেদন করেছি। তারা অনুমোদন না দিলে আমরা পুঁজি খাটিয়ে কোনোভাবেই ঘরে বসে থাকতে পারি না। তাই শহরে অটোরিকশা নামিয়েছি। শহরে যাত্রী বেশি, ভাড়াও বেশি। তাই লাভ হচ্ছে ভালো।’
বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধন করতে ছয় হাজার টাকা লাগে। আর প্রতিবছর নবায়ন করতে লাগে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। নানা মহলকে চাঁদা দিয়ে এসব বাহন শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।’
বিআরটিএ কুমিল্লার সহকারী পরিচালক এ টি এম আবদুল আউয়াল প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুমোদনহীন যানবাহন ধরার জন্য আমরা মোবাইল কোর্ট করে থাকি। শহরের ভেতরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য কোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। নতুন করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়া বন্ধ রয়েছে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম বলেন, ‘প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় শহরে অবৈধ যানবাহন ঢুকে পড়েছে। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া ঠিক নয়।’
বিআরটিএ কুমিল্লা জেলার সভাপতি ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসান বলেন, ‘অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালাব।’














No comments