মনোহরগঞ্জে ঝলক ও বিআর-৪৭ ধান চাষ করে কৃষকের ভাগ্য বিপর্যয়
আবদুল গাফফার সুমন: কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে কৃষকরা বেশী ফলনের আশায় চীন থেকে আমদানীকৃত এগ্রো জি ১৯২২১ হাইব্রিড ধান ঝলক ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন বোর্ড উদ্ভাবিত বিআর-৪৭ ধানের চাষ করে কৃষক মারাত্মক ক্ষতিগ্রসত্ম হয়েছেন।
জানা যায়- উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষক এগ্রো জি ১৯২২১ হাইব্রিড ধান ঝলক ও বিআর-৪৭ ধানের চাষ করেছে ১শ’ থেকে ১৩০ একর জমিতে। কৃষকরা তাদের জমিনে অতিরিক্তি ফলনের আশায় এ দু’ জাতের ধান চাষ করলেও এখন তাদের চরম হতাশায় দিন কাটছে। কোন কোন কৃষক আবাদকৃত ধান ক্ষেতের করুণ অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। সরেজমিনে ফসলি মাঠে গিয়ে ক্ষতিগ্রসত্ম কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান- এ দু’ জাতের ফলন সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই। বীজ বিক্রয়কারী দোকান মালিকরা এসব ধানের ফলন ভালো হবে বলে আশ্বস্থ করেন। এ আশায় আমরা ঝলক ও বিআর-৪৭ ধানের চাষ করি। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগও আমাদেরকে উৎসাহিত করে। তাদের কথা শুনে আমাদের দূরাবস্থার শেষ নেই।
মনোহরগঞ্জের লৎসর গ্রামের আবুল কাশেম, বেতিয়াপাড়ার সুজন, সালেপুরের বাবুল, দিশাবন্দ গ্রামের শাহজাহান, ইন্দ্রি গ্রামের লতিফ, বিনয়ঘর গ্রামের আহছান উল্লাহসহ কয়েকজন কৃষক জানান- আমরা যে মুহুর্তে আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ফলন ঘরে তুলবো ঠিক তার কয়েকদিন আগে আবাদকৃত ধানের শীষগুলো এভাবে পচে বা শুকিয়ে চিটায় পরিণত হবে তা ভাবতে পারিনি। তারা এ বিষয়ে চীন থেকে আমদানীকারক সংস্থা এনার্জি প্যাক এগ্রো লি. হাউব্রিড ধান ঝলকের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কৃষি বিভাগকে দায়ী করেন। কৃষকরা তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
লৎসর গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম জানান- ঝলক ধানের বীজ কিনে নিয়ম মতোই জমিতে রোপন ও পরিচর্যা করি। আমি ৯০ শতক জমি চাষ করে আমার খোরাকের ব্যবস্থা করে থাকি। এর মধ্যে ৬৬ শ’ থেকে জমিতে ঝলক ও বাকী ২৪ শতক জমিতে বিআর-৪৭ ধান চাষ করি। জমির চাহিদা অনুযায়ী কোন কিছু অপূর্ণ রাখিনি। জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল এ জমিতে ৬০ মণ ধান হওয়ার কথা থাকলেও সবমিলিয়ে হয়তো ৫/৬ মণ ধান পেতে পারি।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মনোহরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।













No comments