কুমিল্লা জেলা (দ.) আওয়ামীলীগে চরম অস্থিরতা - ShomoyerDorpon

কুমিল্লা-সংবাদ, কুমিল্লা-সদর, রাজনীতি

কুমিল্লা জেলা (দ.) আওয়ামীলীগে চরম অস্থিরতা

বিশেষ প্রতিনিধি: কুমিল­v জেলা আওয়ামীলীগে নতুন করে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সদ্য অনুষ্ঠিত কুমিল­v সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি এমনটিই ইঙ্গিত করে। নেতায়-নেতায় দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে দ্বিধা-বিভক্ত আওয়ামীলীগ। চলমান পরিস্থিতিতে আওয়ামীলীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতটুকু সফল হবে তাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র মতে- বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল­vর সংসদীয় আসন সমূহে আওয়ামীলীগ ফলাফল নৈপূর্ণ্যতা দেখালেও ক্ষমতায় আসার পরপরই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সমন্বয়হীনতাসহ আরো নানা কারণে কুমিল­vর আওয়ামীলীগে এখন ঘরের শত্রু বিভীষন। সংসদীয় আসনগুলোতেও বিরাজ করছে চরম সমন্বয়হীনতা। দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির হিসাব মেলাচ্ছেন।

সূত্র মতে- বিগত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কুমিল­v জেলা (দ.) ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে দলে চরম দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং দেখা দেয়। জাতীয় সংসদের হুইপ মুজিবুল হক এম.পি’র অনুসারীরা কমিটির বেশীরভাগ পদ দখলে নেয়ায় তারা বেজায় খুশি। কেন্দ্র ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের কমিটিকে সমর্থন জানান কুমিল­vর ৬ এম.পি। কমিটিতে হাজী বাহার গ্রুপের নেতৃবৃন্দ কোনঠাসা হওয়ায় শুরু হয় উভয় গ্রুপের মধ্যে শীতল যুদ্ধ। হাজী বাহার কমিটি প্রতিহতের ঘোষণা দেয়ায় দু’ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব-গ্রুপিংয়ের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। 

জেলা ছাত্রলীগের পাশাপাশি আহবায়ক কমিটি নির্ভর জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতি নিয়েও চলছে চরম অসন্তোষ। কবে সম্মেলন হবে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা থাকলেও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ এ বিষয়ে যেন একেবারে নিরব। ফলে দিনদিন সমন্বয়হীনতা বাড়ছে। সেই সাথে নেতায় নেতায় বাড়ছে দ্বন্দ্ব আর অবিশ্বাস। সদ্য অনুষ্ঠিত কুমিল­v সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সমন্বয়হীনতার কারণে আওয়ামীলীগকে চরম খেশারত দিতে হয়েছে। মেয়র পদে সাবেক ছাত্রলীগের দু’ নেতাকে ম্যানেজ করতে না পারাই ছিল জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বড় ব্যর্থতা। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জেলার সংসদীয় আসনের অধিকাংশ সাংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ভোটাররা তাদেরকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছে। নির্বাচনে আফজাল খানের পরাজয় দলীয় দ্বন্দ্ব-গ্রুপিংয়ের বহিঃপ্রকাশই ঘটেছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আফজালের খানের পরাজয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা চরম হতাশ। জেলা আওয়ামীলীগের অস্থির পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ কতটুকু ইতিবাচক ফলাফল করবেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

No comments


Leave a Reply